রাতের আকাশে দিক নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নক্ষত্রগুলোর একটি হলো ধ্রুবতারা। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম পোলারিস। এটি পৃথিবীর ভৌগোলিক উত্তর দিক বরাবর অবস্থান করে এবং সারা বছর প্রায় একই স্থানে দেখা যায়।
বিশ্ববিখ্যাত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের শিক্ষামূলক ‘ওয়ান্ডার লেসন’ ধারাবাহিকে মহাকাশের নানা রহস্য জানানো হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকের অংশ হিসেবে শেখানো হয়েছে কীভাবে সহজে ধ্রুবতারা খুঁজে বের করা যায়।
ধ্রুবতারা খুঁজতে হলে প্রথমে উত্তর আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল খুঁজে নিতে হবে। এটি হাতলওয়ালা বাটির মতো দেখতে একটি নক্ষত্রপুঞ্জ।
এই নক্ষত্রপুঞ্জের বাটির বাইরের দিকের দুটি তারা—মেরাক ও দুভে—খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদের বলা হয় নির্দেশক নক্ষত্র।
মেরাক থেকে দুভে পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা টেনে সেই রেখা সোজা সামনে বাড়িয়ে দিলে একটি উজ্জ্বল তারা দেখা যাবে। সেটিই ধ্রুবতারা বা পোলারিস।
দুভে থেকে পোলারিসের দূরত্ব প্রায় ৩০ ডিগ্রি, যা হাতের তিনটি মুষ্টির সমান বলে ধরা হয়।
পোলারিস আসলে ক্ষুদ্র সপ্তর্ষি নক্ষত্রপুঞ্জের হাতলের একেবারে মাথায় অবস্থান করে।
‘পোলারিস’ নামটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘স্টেলা পোলারিস’ থেকে, যার অর্থ মেরু নক্ষত্র।
তবে পৃথিবীর অক্ষের ধীরগতির পরিবর্তনের কারণে সব সময় একই তারা উত্তর মেরুর তারা থাকে না।
প্রাচীন মিসরীয়দের সময় উত্তর মেরুর তারা ছিল থুবান। ভবিষ্যতে আবার অন্য কোনো তারা উত্তর নির্দেশক হয়ে উঠবে।
পোলারিস একটি হলুদ দানব নক্ষত্র। এটি সূর্যের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ভারী এবং প্রায় দুই হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল।
যদিও এটি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা নয়, তবুও খালি চোখে সহজেই দেখা যায়। এমনকি শহরের আলোতেও এটি দৃশ্যমান থাকে।
প্রাকৃতিক কম্পাস হিসেবে কাজ করায় দিক নির্ণয়ে ধ্রুবতারার গুরুত্ব অনেক বেশি।
