ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে এসে নজিরবিহীন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তবে এক রাতেই দেশটিকে ‘অচল’ করে দেওয়া হবে।
মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগের অঙ্গীকার করতে হবে বলে জানান ট্রাম্প। অন্যথায় ব্যাপক সামরিক হামলার হুমকি দেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এটি হবে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ’।
তবে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার এই হুমকিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, পরমাণু অস্ত্র ধারণই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধ।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দুই ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানকেও ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযান প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তাদের সেনাদের শত্রু ভূখণ্ডে ফেলে আসে না।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাবকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করলেও সেটিকে যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চুক্তির জন্য তেহরানকে আরও কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে।
পাশাপাশি পেন্টাগন প্রধান সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে ইরানের ওপর আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়সীমাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আল্টিমেটাম কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়বে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
