বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, গণভোট সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হলেও বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
জুবায়ের বলেন, দেশে যেন আর স্বৈরাচারী শাসন ফিরে না আসে সে লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। তার দাবি, এখন এটি জাতীয় সংসদের আলোচ্য বিষয়। আগামী ১২ মার্চ সংসদের অধিবেশন শুরু হবে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আদালতের ওপর নির্ভর করে উদ্দেশ্য হাসিলের প্রচেষ্টা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, সংসদীয় বিষয় আদালতে নেওয়ার ফলে আগেও সংকট তীব্র হয়েছে। কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কেউ চায় না। জুলাই জাতীয় সনদ যেহেতু গণভোটে পাস হয়েছে, তাই দ্রুত তা কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, সোমবার দুটি রিট পিটিশনের শুনানি হয়েছে। একটি আবেদনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ ও সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠনের বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।
অন্য রিটে গণভোট অধ্যাদেশে উল্লিখিত প্রশ্ন ও ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না— সে বিষয়ে রুল প্রার্থনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়, ক্যাবিনেট ডিভিশন, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
