বাংলাদেশে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ না থাকলে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাধাগ্রস্ত হলে নির্বাচন ও সরকারের বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের অধীনে এনে সরকার এক ধরনের ‘দ্বিচারিতা’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালত চারটি পৃথক রুল জারি করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিশির মনির বলেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ না থাকে এবং ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর না হয়, তাহলে গণভোটের প্রশ্নও অবৈধ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন, সরকার—সবকিছুর বৈধতা বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।
রুল প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথম রুলটি হলো—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অসাংবিধানিক হবে না। দ্বিতীয়টি সংবিধান সংশোধন সভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার চিঠির বৈধতা নিয়ে। তৃতীয়টি গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারায় উল্লিখিত চারটি প্রশ্নের বৈধতা নিয়ে এবং চতুর্থটি ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবের বৈধতা নিয়ে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিকে আদালতের বিষয়বস্তু বানানো হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক অমীমাংসিত বিষয় আদালতের আওতায় আনার ফল ভালো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিশির মনির দাবি করেন, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছিল, সেগুলোকে রুলের আওতায় আনার পেছনে সরকারের একটি অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকার সংসদকে পাশ কাটিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি করে সুবিধা নিতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী মো. রেদোয়ান-ই-খোদা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। এছাড়া সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিট করেন আইনজীবী গাজী মো. মাহবুব আলম। রিটকারী দুই আইনজীবীই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
