দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলার পর ক্রমেই চাপে পড়ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। সামরিক অভিযানের পরপরই একের পর এক নেতিবাচক খবর সামনে আসায় হোয়াইট হাউসের অন্দরেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের হতাহতের খবর, যুদ্ধবিমান ক্ষতির দাবি এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুত কমে আসার গুঞ্জন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা John Bolton।
বোল্টন বলেছেন, এই যুদ্ধ কেন মার্কিন জনগণের স্বার্থে—সে বিষয়টি ট্রাম্পকে স্পষ্ট ও জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। যোগাযোগের এই ঘাটতি দূর না হলে ট্রাম্প গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যায় পড়বেন।”
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা বোল্টন আরও দাবি করেন, ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা—এ লক্ষ্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই অভিন্ন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন যুদ্ধ সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে, আর ইসরাইল কৌশলগত পরিকল্পনা সরবরাহ করছে।
বোল্টনের যুক্তি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ করতে হলে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সরাতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল সামরিক আঘাতে সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমানো হলে ইরান আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে, ফলে একই সংকট পুনরায় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
