দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সরকার নিজ দলের নেতাকর্মীদের লাগাম টেনে ধরতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর জনগণ দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আশা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তাদের দাবি, যে সরকার নিজের দলের রাশ টানতে ব্যর্থ, তার কাছে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।
বিবৃতিতে নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার দাবি করায় এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যা এবং রাজধানীর রামপুরায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরিবার বিচারের দাবিতে অনড় থাকায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং পরে তাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
রামপুরার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, শিশুটির পরিবার প্রথমে থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণে অনীহা দেখানো হয়। পরে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে মামলা নেওয়া হলেও পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মুক্তি ও পুনর্বাসনের অভিযোগও তোলা হয়।
সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে নরসিংদী ও রামপুরার ঘটনাসহ সারাদেশে সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
