নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বগ্রহণের মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। দায়িত্ব শেষ করে উপদেষ্টারা নিজ নিজ পেশা ও কর্মক্ষেত্রে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অধিকাংশই রয়েছেন গণমাধ্যমের আড়ালে। কেউ সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন, কেউ আবার এখনো অবস্থান করছেন সরকারি বাংলো বা অ্যাপার্টমেন্টে।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুরুতে ১৬ উপদেষ্টা নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরে যুক্ত হন আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী। দেড় বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নতুন সরকারের শপথের আগেই প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ত্যাগ করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথের রাতেই সিঙ্গাপুরে যান প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা ছাড়েন বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ।
দায়িত্ব শেষ হলেও প্রধান উপদেষ্টা এখনো যমুনায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি ইতোমধ্যে ইউনূস সেন্টার–এ যোগ দিয়েছেন। শিগগিরই গুলশানের নিজ বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তার। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে উপদেষ্টাদের সরকারি বাসা ছাড়তে হয়; বিশেষ প্রয়োজনে দ্বিতীয় মাসে থাকতে হলে সরকারি ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
আলোচিত উপদেষ্টাদের একজন আসিফ নজরুল ৩৫ হেয়ার রোডের সরকারি বাসা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর ফুলার রোডের পুরোনো বাসায় উঠেছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশীদকে হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সরকারি বাসা ছেড়েছেন, বাকিরাও প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এখনো মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় আছেন।
৩৫ মিন্টো রোডে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ৫ নম্বর মিন্টো রোডে রয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন। আর ৩৪ মিন্টো রোডে অবস্থান করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, ফরিদা আখতার, এম সাখাওয়াত হোসেন ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সরকারি বাসার সুবিধা নেননি; তারা ঢাকায় নিজ নিজ বাসায় ছিলেন।
দায়িত্ব শেষের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)–তে আবারও কাজ শুরু করেছেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে লেখালেখি ও শিক্ষকতায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
সরকার পরিবর্তনের পর সাবেক উপদেষ্টাদের অবস্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে—দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই দেশেই অবস্থান করছেন। তবে অধিকাংশই আপাতত গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে থাকতে চাইছেন।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
