শৈশবেই পরিবারসহ আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনে পাড়ি জমাতে হয়েছিল লিওনেল মেসি-কে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার অসাধারণ প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে দলে ভেড়ায় বার্সেলোনা। ক্লাব পর্যায়ে একের পর এক সাফল্যের মাঝে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল তার সামনে।
তবে জন্মভূমির প্রতি গভীর টানই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় তার সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি ‘মিরো দে আত্রাস’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, বার্সেলোনার হয়ে খেলার সময় স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে এমন প্রস্তাব নতুন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেসি বলেন, তখন তাকে স্পেনের হয়ে খেলার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। সেই দ্বিধার কারণেই ২০০৩ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ-এ অংশ নিতে পারেননি। ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে স্পেন ৩-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারায়। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করেন সেস ফাব্রেগাস।
পরবর্তীতে স্পেনের হয়ে খেলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পান মেসি। কিন্তু ততদিনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ফেলেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, খুব অল্প বয়সে বার্সেলোনায় গেলেও এবং স্পেনে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেললেও হৃদয়ে তিনি সবসময় আর্জেন্টাইনই ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নামার।
এরপর আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলে সুযোগ পান মেসি এবং ২০০৫ সালে জেতেন যুব বিশ্বকাপ। ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা খরা কাটান তিনি। পরে ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন এবং ২০২৪ সালে আরেকটি কোপা আমেরিকা শিরোপা ঘরে তোলেন। একই বছরে জেতেন ফিনালিস্সিমাও।
ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও বিশ্বমঞ্চে নিজের ছাপ রেখে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মেসি। আগামী দিনগুলোতেও আর্জেন্টিনার জার্সিতেই তাকে দেখা যাবে—এমন প্রত্যাশাই তার ভক্তদের।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
