বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সামর্থ্যের বাইরে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না তার দল। বিএনপির বিশ্বাস—রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত উৎস জনগণ, তাই বাস্তবসম্মত অঙ্গীকার নিয়েই তারা নির্বাচনে যাচ্ছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৭ আসনেও পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যা বাস্তবায়নযোগ্য। অবাস্তব স্বপ্ন দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি তারা করে না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তিনি দেশের পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্য বদলের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি জানান, নারী উন্নয়ন, শিক্ষার্থী সহায়তা, বেকারদের কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নারী ক্ষমতায়নে বিএনপির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠন করলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।
কর্মসংস্থানের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে তরুণরা দক্ষতা অর্জন করে দেশে বা বিদেশে কাজের সুযোগ পায়। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নতুন হাসপাতাল স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেন।
দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশই সবার চূড়ান্ত ঠিকানা—এ দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলনে আহত ও নিহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
