ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র মজুতের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ অভিযোগ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র জমা করছে, যা জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তার অভিযোগ, অনেক প্রার্থী উঠান বৈঠকে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপি মুখপাত্র। তার দাবি, উচ্চকক্ষসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ক্ষমতায় গেলে দলটি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অতীতের ফ্যাসিবাদের যথাযথ বিচার নাও হতে পারে।
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে একটি দলের প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে বিএনপি কাজ করছে—এমন প্রশ্ন জনমনে তৈরি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পক্ষের মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে তা রাজপথে প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের মাঠে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই। একটি নির্দিষ্ট দল নিয়ম ভাঙলেও কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আবারও আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।
