অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ারের উদ্যোগে ‘নব যাত্রায় অনুষ্ঠান ২০২৬’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে অটিজম শিশুদের মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক উন্নয়নে করণীয়, কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব এবং সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শাহাদাত হোসেন, ডিরেক্টর, আল-আমিন হসপিটাল। তিনি বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়; এটি একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল বৈশিষ্ট্য। সময়মতো কাউন্সেলিং, থেরাপি ও চিকিৎসা সহায়তা পেলে অটিজম শিশুরা তাদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায়। পরিবারকে ধৈর্যশীল হয়ে ভালোবাসা ও সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করাকেই অটিজম শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আলী আকবর, চেয়ারম্যান, অটিজম ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্কুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ার শিক্ষা, কাউন্সেলিং ও থেরাপির মাধ্যমে অটিজম শিশুদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। লক্ষ্য কেবল শিক্ষা নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা। তিনি এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মো. মনির হোসেন, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক, আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন বলেন, অটিজম শিশুদের অধিকার একটি মানবাধিকার ইস্যু; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। উপদেষ্টা, আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ও উপ'সম্পাদক, আজকের খবর বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে; দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া প্রকৃত সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত হবে না।
ডিজিএম মো. মসিউর রহমান, চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটাল বলেন, ফিজিওথেরাপি অটিজম শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা ও মোটর স্কিল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিতাই চাঁদ ভৌমিক (স্বপন), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মডার্ণ ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স বলেন, সঠিক ডায়াগনোসিস অত্যন্ত জরুরি; প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে উন্নয়নের পথ সহজ হয়।
উত্তম মন্ডল, গ্রামীন ল্যাবরেটরীজ বলেন, চিকিৎসা ও পরীক্ষার খরচ কমিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার পরিবারগুলোকেও সেবার আওতায় আনতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ ভূঁইয়া (স্বপন), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওএমএস বাংলাদেশ লিমিটেড বলেন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অটিজম শিশুদের জন্য আরও কাজ করা প্রয়োজন।
সাথী বড়ুয়া, প্রধান শিক্ষক, অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ার বলেন, অটিজম শিশুরা ভিন্নভাবে শেখে; শেখার পদ্ধতি বুঝে পাঠদান করলে তারা অসাধারণ ফলাফল দেখাতে পারে।
প্রকৌশলী মো. রফিকুর রহমান, সাবেক ইনচার্জ, ভকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার (YMCA), নাসিরাবাদ বলেন, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অটিজম শিশুদের কর্মমুখী করা সম্ভব।
হাফেজ মো. মামুন, পরিচালক, আল ফজর একাডেমি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
মো. জাহাঙ্গীর আলম, আল ফজর একাডেমি বলেন, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়তে পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করা জরুরি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোজাম্মেল হক মুন্না, অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ার। কোরআন তেলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন হাফেজ আবু রায়হান, চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে অটিজম কাউন্সেলিং চাইল্ড কেয়ার ও ইকরা আদর্শ কোরআন মডেল মাদ্রাসা।
