ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের পাঠানো ওই চিঠিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশ দল কী ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কার মুখে পড়তে পারে—সে বিষয়ে বিসিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে আইসিসি।
জানা গেছে, গত ৮ জানুয়ারি আইসিসির সিকিউরিটি ম্যানেজার বিসিবির নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টার কাছে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠান। ই-মেইলের কপি হাতে পেয়েছে যমুনা নিউজ।
আইসিসির ই-মেইলে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে
ই-মেইলের শুরুতে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলতে বিসিবির আগ্রহ এবং মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। এরপর চারটি আলাদা বিষয়ের আলোকে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়।
মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যু
গত ডিসেম্বরেই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। সেখানে অন্য দলগুলোর জন্য ঝুঁকি মাঝারি হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাঝারি থেকে উচ্চ পর্যায়ের বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী পুনর্মূল্যায়নেও বাংলাদেশ দলের জন্য মাঝারি ঝুঁকির কথা উঠে আসে। এর সঙ্গে যোগ হয় মোস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টি। আইসিসির মতে, ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থা’ সংশ্লিষ্ট কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে দলে মোস্তাফিজের উপস্থিতি বাড়তি সমস্যার কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে, গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ম্যাচের সময়সূচি ও প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এসব ভেন্যুতে বাংলাদেশ দলের জন্য ঝুঁকি ‘মিডিয়াম-লো’ বা মাঝারি থেকে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমর্থকদের নিরাপত্তা
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ইতিহাস ও নিশ্চয়তার আলোকে আইসিসি জানায়, কলকাতা বা মুম্বাইয়ে কোনো দল বড় ধরনের সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বাংলাদেশি সমর্থকদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা দলের জার্সি পরে বা ছোট দলে বিভক্ত হয়ে স্টেডিয়ামে যাবেন, তাদের জন্য ঝুঁকির মাত্রা মাঝারি থেকে উচ্চ হতে পারে। পাশাপাশি, বিশ্বকাপ ঘিরে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে তা আশপাশের বড় এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গ
ই-মেইলে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঝুঁকি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতির প্রভাব স্বল্প থেকে মধ্যম মেয়াদে পুরো অঞ্চলে পড়তে পারে। তবে তা সরাসরি খেলার ভেন্যু বা খেলোয়াড়দের ওপর সহিংসতায় রূপ নেবে না বলে ধারণা করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকি মাঝারি মাত্রার বলে উল্লেখ করা হয়।
ই-মেইলের শেষ অংশে জানানো হয়েছে, কৌশলগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বর্তমানে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মনোনীত দুইজন স্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপকের কাছে পর্যালোচনার জন্য রয়েছে। এ বিষয়ে বিসিবির মতামত ও মূল্যায়নকে স্বাগত জানানো হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উদ্বেগ দূর করা যায়।
