প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। তবে এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করব।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিমান বাহিনীর অনেক উড়োজাহাজ পুরোনো এবং কিছু সার্ভিসেবল অবস্থায়ও নেই। এ কারণে ন্যূনতম কিছু সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনা প্রয়োজন। কোন দেশ থেকে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, তা নিয়ে সরকারের ভেতরে বিস্তর আলোচনা হচ্ছে।
তিনি জানান, সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার একটি চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এটি প্রধান উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে।
জোট গঠন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, গত দেড় বছরে বাংলাদেশ কোনো নতুন জোটে যোগ দেয়নি। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে। তবে কেবল তখনই কোনো জোটে যুক্ত হবে বাংলাদেশ, যখন সেখানে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলবের পর আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে আপত্তি জানানো। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিস্তারিত বলতে পারবেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং এতে অনেক সময় লাগবে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে।
ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মিশনগুলোর নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই এ ব্যবস্থা।
