ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে সরকারি ঘোষণার পর বাস্তবে বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সরকারি দামে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দোকানভেদে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা, কোথাও কোথাও দাম হাঁকানো হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকারও বেশি।
শনিবার মিরপুরের একাধিক দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুত থাকলেও বিক্রেতারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। তাদের ভাষ্য, ‘ওপর থেকে’ দাম বাড়ানো হয়েছে, তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে। ‘ওপর’ কারা— এমন প্রশ্নে অনেক বিক্রেতাই এড়িয়ে যান বা উল্টো ক্রেতাকেই খোঁজ নিতে বলেন।
এক বিক্রেতা জানান, নিয়মিত ক্রেতাদের ২ হাজার টাকায় সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন বা অনিয়মিত ক্রেতাদের ক্ষেত্রে দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
ঘরোয়া রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আগে যেখানে দেড়-দুইশ টাকা বেশি নেওয়া হতো, সেখানে একলাফে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়তি দাম নেওয়াকে অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক বলছেন ভোক্তারা।
এদিকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ জানাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ (২৪/৭) চালু রয়েছে। এছাড়া অনলাইনে www.dncrp.com ওয়েবসাইটেও অভিযোগ করা যাবে।
