শীত মৌসুম শুরু হলে শরীর এমন খাবারের চাহিদা অনুভব করে, যা একদিকে উষ্ণতা দেবে, অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে। ছোট আকৃতির হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর এমন একটি ফল হলো খেজুর। স্বাদে মিষ্টি এই ফলটি শুধু শক্তির উৎসই নয়, শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকে খেজুরে ক্যালোরি বেশি ভেবে এড়িয়ে চলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো খাবারের মতো খেজুরও পরিমিত পরিমাণে খেলে উপকারই বেশি। শীতকালে প্রতিদিন মাত্র দুইটি খেজুর খাদ্যতালিকায় রাখলেই মিলতে পারে নানা স্বাস্থ্যগত সুবিধা।
শীতে খেজুর খাওয়ার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা তুলে ধরা হলো—
১. খেজুর শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শীতের দিনে অলসতা দূর করে শরীরকে সক্রিয় ও চাঙ্গা রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।
২. খেজুরে থাকা পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও কপার হাড়ের গঠনকে শক্তিশালী করে। হাড়ের দুর্বলতা ও ব্যথা কমাতেও এটি সহায়ক।
৩. শীতের সময় তাপমাত্রা ওঠানামার কারণে অনেকের শরীর সহজেই ঠান্ডা হয়ে যায়। খেজুর শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কমায়।
৪. খেজুরে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, গ্লুকোজ, সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকায় এটি তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। শীতের দিনে শক্তির ঘাটতি পূরণে এটি কার্যকর।
৫. প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার হিসেবে খেজুর শারীরিক ক্লান্তি ও অবসন্ন ভাব দূর করে, দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতে সহায়তা করে।
৬. আয়রনসমৃদ্ধ খেজুর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া খেজুরে থাকা সলিউবল ও নন-সলিউবল—দুই ধরনের ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায়, অন্ত্রের কার্যকারিতা ঠিক রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়।
