চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রধান সড়ককে ছয় লেনে সম্প্রসারণের দাবিতে চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুর ওপর অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। রোববার সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই প্রান্তে হাজারেরও বেশি যান আটকে পড়ে, ফলে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে। “আগামী সাত দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র জারি করা হবে” এমন বার্তা আন্দোলনকারীদের পৌঁছে দেওয়ার পর তারা দুপুর ১টার পর সেতু এলাকা ত্যাগে সম্মতি প্রকাশ করেন। ফলে সড়কে যানচলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।
সড়ক বন্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন চলমান বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। অনেক পরীক্ষার্থীকে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
সূত্রমতে, প্রায় এক মাস ধরে এই সড়ক সম্প্রসারণের দাবিতে এলাকাভিত্তিক স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও জনসমাবেশের মতো কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’ ব্যানারে আজকেই ছিল ঘোষিত ব্লকেডের চূড়ান্ত পর্ব, যা শুরু হয় চিরিঙ্গা পৌর এলাকার মাতামুহুরী সেতু কেন্দ্র করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই সেতুর ওপর অবস্থান নিয়ে নানা দাবিনামা ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উন্নত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শ্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। তাদের মতে, “বর্তমানে দুই লেন বিশিষ্ট সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানির মিছিল থামাতে ছয় লেনই একমাত্র সমাধান।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আঞ্চলিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি দল সতর্ক অবস্থানে ছিল।
