আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক মৈত্রীর (জোট) ছায়াতলে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করলেও প্রতিটি দলকে নিজস্ব প্রতীকেই প্রার্থী তোলার যে বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন নির্ধারণ করেছেন উচ্চ আদালত।
রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বিচারক বেঞ্চ শুনানির এই সময় স্থির করেন।
মামলার আবেদনের পক্ষে আদালতকক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রবীণ আইনজীবী আহসানুল করিম। সহকারী কৌঁসুলি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো জোটভুক্ত অবস্থায় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নামলেও ঐক্যজোটের অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করতে না পারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর চেতনার পরিপন্থী। এতে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশটি বাতিলের আরজি জানানো হয়েছে, যেখানে ‘জোটের প্রতীক’ ভাগাভাগির সুযোগ বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছিল।
ওই রিট আবেদনটি দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর শীর্ষ নেতা ববি হাজ্জাজ পরিচালিত সংগঠনের মহাসচিব মোমিনুল আমিন। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর সরকার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিও সংশোধন করে এমন শর্ত আরোপ করে, যেখানে বলা হয়—জোট গঠন করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে প্রত্যেক দলকে তার নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতেই হবে।
এর আগে জোটভুক্ত দলগুলোর জন্য একে অন্যের প্রতীক ব্যবহারের দরজা খোলা ছিল, ফলে ছোট দলগুলোও বৃহৎ শরিকের প্রতীকে লড়াই করার সুযোগ পেত।
অধ্যাদেশ ঘোষণার পরপরই প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শিবির বিএনপি এ বিধান নিয়ে লিখিত আপত্তি জানায় এবং নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ে তাদের উদ্বেগ–বার্তা পেশ করে। এছাড়া জোটভুক্তির আশায় থাকা কয়েকটি ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের মধ্যেও এ সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।
বিভিন্ন মহলের সূত্র অনুযায়ী, সরকার নাকি ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল—এমন সংবাদের জেরে জামায়াতে ইসলামীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। কিন্তু শেষপর্যন্ত সংশোধিত বিধান অপরিবর্তিত রেখেই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা এখনো তীব্র।
