বাংলাদেশে বৃহৎ শক্তিসম্পন্ন ভূকম্পনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষক ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা পুনরায় সতর্ক সংকেত উচ্চারণ করেছেন। গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র নদীপ্রবাহ বেষ্টিত অঞ্চলের গভীরে থাকা ‘মেগাথার্স্ট’ ফাটলরেখা থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল উদ্বেগ জানায়।
শনিবার রাজধানীর এভারকেয়ারসংলগ্ন হোটেল দ্য ওয়েস্টিনে ‘ভূমিকম্প বিষয়ে জনবোধ, সুরক্ষা বিধান ও জরুরি মোকাবিলা প্রস্তুতি’ প্রতিপাদ্যে এক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটির উদ্যোগ নেয় জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড—যেখানে গবেষক, নকশাবিদ, প্রকৌশলী, আবাসন খাতের প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় ভূ-স্তরীয় প্লেটের মিলনবিন্দুতে অবস্থান করায় স্বাভাবিকভাবেই এটি ভূকম্পন–প্রবণ দেশগুলোর তালিকায় ওপরের সারিতে। এ কারণে সঠিক প্রস্তুতি, জনসচেতনতা, আধুনিক নির্মাণ প্রযুক্তি, উদ্ধার–সক্ষমতা বাড়ানো, ফাটলরেখাগুলোর পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বহুলাংশে কমানো সম্ভব।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, এক শতাব্দীর মধ্যে বাংলাদেশে ২০০–এর বেশি ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়েছে, আর ২০২৪–এর পর থেকে অনুভূত কম্পনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকির মাত্রা আরও জটিল হয়েছে। পুরোনো এক গবেষণায় বলা হয়, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সাবডাকশন অঞ্চলে গত ৮০০ থেকে ১ হাজার বছরের জমে থাকা ভূ-শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি—যা ভবিষ্যৎ বড় কম্পনের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাপানের ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো ও হেসাইয়ে সুগিয়ামা তাদের অভিজ্ঞতা–ভিত্তিক বক্তব্যে ভূমিকম্প–পরবর্তী ব্যবস্থাপনা, টেকসই নির্মাণমান, কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই ও স্মার্ট নকশা তৈরির পরামর্শ দেন। বক্তারা ভূকম্পন–প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান স্থাপনার কাঠামোগত যাচাই, মান–পর্যবেক্ষণ, নাগরিক অনুশীলন (ড্রিল), পরিবারভিত্তিক জরুরি পরিকল্পনা এবং আগাম সতর্ক–বার্তা প্রযুক্তি স্থাপনের ওপর জোর দেন।
জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক অনুভূত কম্পনগুলো আমাদের ঝুঁকি মনে করিয়ে দিয়েছে। অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ, ঘিঞ্জি জনবসতি, নকশা–কোডের প্রতি উদাসীনতা এবং সংকীর্ণ যোগাযোগ–ব্যবস্থা বড় ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের তীব্রতা বাড়াতে পারে। তাই এখনই প্রস্তুতির বাঁধ শক্ত করা সময়ের দাবি।
সেমিনারে দেশের খ্যাতিমান প্রকৌশলী, স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ ও আবাসন খাত–সংশ্লিষ্ট শীর্ষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন এবং একটি ভূমিকম্প–সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
