আজকাল অনেকেই হার্টের নানা সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুতর সমস্যা হলো হার্ট ব্লক। অনেক সময় মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারেন না, ফলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। অথচ সামান্য সচেতনতা ও নিয়মিত চেকআপে আগেভাগেই এটি শনাক্ত করা সম্ভব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থাকা যায়।
হার্ট ব্লক কী?
হার্ট ব্লক হলো হৃৎপিণ্ডের ভেতরের ইলেকট্রিক্যাল সংকেত প্রেরণে বাধা। আমাদের হৃদপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দন এই সংকেতের ওপর নির্ভরশীল। সংকেত সঠিকভাবে না পৌঁছালে বা থেমে গেলে হৃদযন্ত্রের ধুকপুকানি অনিয়মিত বা অতি ধীর হয়ে যায়। এতে শরীরে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
হার্ট ব্লকের ধরন
হার্ট ব্লক সাধারণত তিনটি স্তরে বিভক্ত
প্রথম ডিগ্রি (১ম ধাপ):
-
এটি সবচেয়ে হালকা ধরণের ব্লক।
-
সংকেত পৌঁছাতে দেরি হয়, তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয় না।
-
সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।
দ্বিতীয় ডিগ্রি (২য় ধাপ):
-
দুই প্রকারে বিভক্ত
-
টাইপ ১: সংকেত মাঝে মাঝে পৌঁছায়, মাঝে মাঝে হারিয়ে যায়।
-
টাইপ ২: অনেক সংকেতই পৌঁছায় না, ফলে হৃদস্পন্দন অতি অনিয়মিত হয়। এ ক্ষেত্রে পেসমেকার প্রয়োজন হতে পারে।
-
তৃতীয় ডিগ্রি (৩য় ধাপ):
-
সবচেয়ে গুরুতর ধাপ।
-
সংকেত একদমই নিচের অংশে পৌঁছায় না।
-
হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পেসমেকার ছাড়া বাঁচা কঠিন।
সতর্ক হওয়ার লক্ষণ
হার্ট ব্লকের উপসর্গ নির্ভর করে ব্লকটির মাত্রার ওপর। কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো
-
বুক ধড়ফড় করা বা ব্যথা অনুভব
-
সবসময় ক্লান্তি
-
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
-
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
-
বমি বমি ভাব
-
হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া
প্রথম ডিগ্রির ব্লক সাধারণত রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে, কিন্তু তৃতীয় ডিগ্রিতে উপসর্গগুলো তীব্র হয় এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়ায়
-
হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD)
-
জন্মগত হৃদরোগ
-
হার্টের ভাল্ভ বা পেশির রোগ
-
রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ বা সারকয়েডোসিস
-
ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া (স্লিপ অ্যাপনিয়া)
-
বিটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার জাতীয় ওষুধের অতিব্যবহার
-
থাইরয়েড সমস্যা বা লাইম রোগ
প্রতিরোধের উপায়
সবক্ষেত্রে হার্ট ব্লক ঠেকানো সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপন ঝুঁকি কমায়
-
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম
-
ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন
-
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
-
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা
-
যেসব ওষুধ হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলে, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরিবর্তন করা
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পেছনে অনেক সময় হার্ট ব্লক দায়ী হতে পারে। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন। সহজ পরীক্ষায় যেমন ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে এটি ধরা সম্ভব।
চিকিৎসা এখন অনেক উন্নত—ওষুধ বা পেসমেকার ব্যবহারে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনা যায়।
সচেতন থাকুন, নিয়মিত চেকআপ করুন, সুস্থ থাকুন।
