দেশের সর্বাধিক প্রচলিত ও সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে কলা অন্যতম। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীরের জন্য শক্তির উৎস এবং নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কলা খাওয়ার সময়ের উপর নির্ভর করে এর উপকারিতা ভিন্ন হতে পারে।
সঠিক সময়ে খাওয়ার উপকারিতা
ব্যায়ামের আগে (১৫-৩০ মিনিট আগে) কলা খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে এবং পেশি কাজের জন্য প্রস্তুত হয়। নাশতার সঙ্গে দই, ওটস বা পাউরুটির সাথে খেলে দিন শুরু হয় সতেজভাবে। দুপুর বা বিকেলে খাবারের পর বা ক্ষুধা লাগলে কলা খেলে শক্তি ফিরে আসে ও মন ভালো থাকে।
হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
খাবারের সঙ্গে কলা খেলে এর ফাইবার হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে। অপক্ব কলায় থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায় ও হজমে সহায়তা করে। আবার ভাত বা রুটি খাওয়ার আধাঘণ্টা আগে কলা খেলে পেট দ্রুত ভরে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। দুপুর ও রাতের খাবারের মাঝখানে স্ন্যাকস হিসেবে একটি কলা ক্ষুধা মেটায় এবং অতিরিক্ত ক্যালরি বাড়ায় না।
পুষ্টিগুণ
একটি মাঝারি আকারের কলায় থাকে প্রায় ১০৫ ক্যালরি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬। পাকা কলায় চিনি বেশি থাকলেও অপক্ব কলায় ফাইবার ও স্টার্চের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণভাবে দিনে একটি কলা খাওয়া যথেষ্ট।
সঠিক সময়ে এবং পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় শক্তি, হজম প্রক্রিয়া থাকবে সুস্থ, আর ওজন নিয়ন্ত্রণেও পাওয়া যাবে সহায়তা।
