খুলনা নগরে গুলিবিদ্ধ যুবক রাজু হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁকে গুলি করা এবং পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশারেফ হোসেন। তিনি জানান, রাজুর অবস্থা আগের তুলনায় ভালো এবং রাজধানীতে তাঁর চিকিৎসা চলছে পুলিশের নজরদারিতে। গুলির ঘটনাগুলো নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো মামলা দায়ের হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রাতের অন্ধকারে পুলিশি পাহারায় ঢাকায় নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এটি পূর্বশত্রুতা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা কোনো অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল কিনা—সব দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার নগরের লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু হাওলাদার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ঠিক কখন এবং কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
পুলিশ জানায়, রাজু শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। লবণচরা থানাতেই চারটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার গভীর রাতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ সময় রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।
হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি ওই এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি চালিয়েছে বলে তারা শুনেছেন। পরে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটিকে নিরাপদে এলাকা পার করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
