ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্বামীসহ শ্বশুর–শাশুড়ির নামে মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মিম আক্তার (৩০) আখাউড়া উপজেলার আজমপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের মেয়ে। প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ২০১৯ সালে একই উপজেলার রামধননগর গ্রামের দ্বীন ইসলাম ওরফে দিনু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় সেলুনকর্মী দ্বীন ইসলাম বর্তমানে নরসিংদীতে কাজ করেন। সম্প্রতি সেখানে নতুন সেলুন দেওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে দ্বীন ইসলাম শ্বশুরবাড়িতে এসে পরদিন সকালে আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীকে মারধর করে তার মুঠোফোন নিয়ে চলে যান। পরে বিকেলে ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলে বাড়ির কাছেই ডেকে নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করেন।
মিম আক্তারের অভিযোগ, এ সময় তার কানে থাকা স্বর্ণালংকার খুলে নিতে চাইলে তিনি রাজি না হওয়ায় স্বামী তাকে নাকে ঘুষি দেন। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে বসিয়ে মুখ চেপে ধরে ছুরি দিয়ে হাত ও গালে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে স্বামীর পায়ে ধরেও রক্ষা পাননি। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মাথার চুল কেটে দেন স্বামী।
চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা মিমকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী জানান, গত এক-দেড় মাস ধরে তার কাছে যৌতুক দাবি করা হচ্ছিল। এর আগে স্বামীকে একাধিক কিস্তিতে প্রায় চার লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেও পরে সেটি বিক্রি করে দেন স্বামী। এরপর থেকেই পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন বেড়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে জাবেদ উল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
