জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী–এর ছবি ও কণ্ঠ নকল করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ এ আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত দুইজনের রিমান্ড মঞ্জুর করে বাকি আটজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন—মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ। অন্যদিকে আরও আটজন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড. আজহারীর মুখ ও কণ্ঠ হুবহু নকল করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করত। এসব ভিডিওতে তার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো।
চক্রটি ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ প্রায় ২৪টির বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও প্রচার করত। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন থানায় এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়। পরে ঢাকার পল্টন থানা ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ড. আজহারী দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার জনপ্রিয়তা ও ধর্মীয় প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতারণা চালানো হচ্ছিল।
