মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর আরোপিত টোল থেকে প্রথমবারের মতো রাজস্ব আয় করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত টোল থেকে পাওয়া প্রথম আয় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে।
তবে কীভাবে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে বা কোন দেশ কিংবা প্রতিষ্ঠানের জাহাজ এই অর্থ পরিশোধ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা এখনো ইরানের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম প্রধান রুট।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছিল। দেশটির কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আর আগের মতো স্বাভাবিক থাকবে না।
গত ৩০ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিশন টোল আরোপের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সংসদীয় ভোট হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের ওপর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে United Kingdom, Franceসহ ৩০টিরও বেশি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
