বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বেশিরভাগ কর্মকাণ্ডকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারের প্রায় সব কার্যক্রম বৈধতার আওতায় আনা হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও কার্যদিবসের সীমাবদ্ধতায় মাত্র ১২-১৩ দিনের মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
এ সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বিশেষ সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে বিল আকারে আনার সুপারিশ রয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, রহিত বা সংরক্ষণের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আলোকে যে গণভোটের কথা বলা হয়, সাম্প্রতিক গণভোট সেটি নয়। তবে গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হওয়ায় সেটির বৈধতা রয়েছে। তিনি জানান, চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হলে এসব বিষয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধতা পাবে।
সংসদে বিরোধী দলের একাধিক ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য বিভ্রাটের কারণে বিরোধী দল এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিরোধী সদস্যদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে।
‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সংক্রান্ত বিতর্কিত বিলের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সংশোধন আনা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে এটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গুম, মানবাধিকার কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আরও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এসব আইন যথাযথভাবে সংশোধন করে পরবর্তীতে উপস্থাপন করা হবে।
