যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের আগে যুদ্ধবিরতি কাঠামো চূড়ান্ত হলে খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ওই কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার কিংবা পরদিন শুক্রবারের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করা হতে পারে। যুদ্ধবিরতির সমঝোতা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক ওঠানামাও দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রণালিটি খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে বিপুলসংখ্যক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তার মাত্র পাঁচ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করতে পারছে। যদিও কিছু দেশ নিজেদের উদ্যোগে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। সেক্ষেত্রে প্রতিটি জাহাজকে ট্রানজিট ফি পরিশোধ করতে হতে পারে। জানা গেছে, এই ফি সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে এবং ইরানের পাশাপাশি ওমানও এতে অংশীদার থাকবে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ মালিক এই ফি পরিশোধ করেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে, তবে শর্তসাপেক্ষ এই ব্যবস্থার প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
