যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসছে—এমন দাবি তুলে তীব্র বিদ্রূপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei। একই সঙ্গে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ এনে ওয়াশিংটনের কঠোর সমালোচনাও করেছেন তিনি।
সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি বলেন, ইরানের স্কুলসহ অসামরিক স্থাপনায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার অপচয় করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-এর একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী যে হারে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা পুনরায় উৎপাদনের তুলনায় অনেক দ্রুত।
এ প্রসঙ্গে বিদ্রূপ করে বাঘায়ি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা না চালালে হয়তো এখনো তাদের ভাণ্ডারে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, উন্নত প্রযুক্তির এসব অস্ত্র শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। গত এক মাস ধরে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ নিয়ে এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইরানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও পাল্টা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চাপের মুখে পড়তে পারে।
