গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সরকারি দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ আর অন্যটিকে অবৈধ বলা ‘বিবেকবিরোধী’ এবং ‘প্রতারণার শামিল’। সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, তবে এর পরিণতি শুভ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে খুলনা মহানগরের খালিশপুর বিআইডিসি রোডে শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে আয়োজিত ঈদ প্রীতিসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায় সরকারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে তার দায়ভারও সরকারকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে সংঘাতের পথে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, তারা কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদে উল্লেখযোগ্য আসন নিয়ে বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে এবং দলটির আমির শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত আইনে পরিণত না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল আলম, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইনসহ অন্যান্য নেতারা।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
