ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিভ্রান্তি ও মতভেদ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক মার্কিন সেনাসদস্যদের অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের মতে, একের পর এক সামরিক হামলা ও কঠোর হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের পাল্টা হিসেবে দেশটির বন্দর অবরোধের ঘোষণা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জনই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সমর্থন করছেন না। রাজনৈতিক বিভাজনও এখানে স্পষ্ট—ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যুদ্ধের বিরোধী হলেও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি।
তবে রিপাবলিকান শিবিরেও ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নিরপেক্ষদের মধ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল সম্পর্কে সরকার জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। ফলে বড় ধরনের গণআন্দোলন না হলেও ধীরে ধীরে অসন্তোষ বাড়ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা ইরানকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন এবং সামরিক পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন। তাদের মতে, এই অভিযান দেরিতে হলেও সঠিক সময়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে জনমতের এই বিভক্তি ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
