যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মুখে কঠোর আত্মরক্ষার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকবে, ততদিন তেহরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।
গত শনিবার থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরাভানি বলেন, ইরানের সামরিক অভিযান কেবলমাত্র শত্রুপক্ষের যুদ্ধরত বাহিনী ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বেসামরিক নাগরিক কিংবা প্রতিবেশী দেশের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না। “আমাদের টার্গেট শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু,”—উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান উত্তেজনা বাড়াতে বা নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু করতে চায় না; তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আগ্রাসন চলতে থাকলে ইরান আত্মরক্ষায় দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকায় অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইরানের এই বক্তব্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হলেও সংঘাতের তীব্রতা কমার লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
