ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না। মার্কিন গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘ইরান পুনরায় আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে’—এমন খবরকে তিনি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে লারিজানি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প তার ‘ভ্রান্ত ধারণা’ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে ট্রাম্প ‘ইসরাইল ফার্স্ট’-এ রূপান্তর করেছেন এবং ইসরাইলের স্বার্থে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। তার দাবি, নতুন নতুন মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মার্কিন প্রশাসন সেনা ও তাদের পরিবারকে চরম মূল্য দিতে বাধ্য করছে।
গত শনিবার শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যুদ্ধের তৃতীয় দিনেও ইরানজুড়ে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো চিঠিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বিপজ্জনক উস্কানি বলে বর্ণনা করেন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
