রমজানে দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার গ্রহণ না করার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। শারীরিকভাবে পানিশূন্যতা ত্বকে সরাসরি প্রতিফলিত হয়—ত্বক নিস্তেজ হতে পারে, ঠোঁট ফেটে যেতে পারে এবং চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়। তৈলাক্ত ত্বকেও ডিহাইড্রেশনের কারণে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন হয়ে ব্রণ বা ছোট ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
শারমিন কচি, রূপবিশেষজ্ঞ, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ার বলেন, রমজান মাসে ত্বককে সুস্থ রাখতে পরিমিত পানি অত্যন্ত জরুরি। ইফতারের পর একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি গ্রহণ করলে শরীর ও ত্বক দুটোই উপকৃত হয়। এছাড়া তরমুজ, শসা, কমলা বা ডাবের পানি ও লেবুপানি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। তবে অতিরিক্ত চা বা কফি পান এড়িয়ে চলাই উত্তম।
ত্বকের দৈনন্দিন যত্নেও কিছু পরিবর্তন আনা উচিত। হালকা ধরনের ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয় না। ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন লাইটওয়েট এবং হাইড্রেটিং। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা আরও জরুরি, কারণ সূর্যের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ছোপছোপ দাগ, পোড়া ভাব বা অকাল বার্ধক্য দেখা দিতে পারে।
রাতের ত্বকচর্চায় ইফতারের পর মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। মেকআপ থাকলে ডাবল ক্লিনজিং করা উচিত এবং কোমল ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উত্তম। এরপর হাইড্রেটিং সিরাম ব্যবহার করে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক সতেজ থাকে। দিনের বেলায় ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করা যায়, রাতে ভিটামিন ই বেছে নিতে পারেন। সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে মৃত কোষ দূর হয়, তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলা উচিত।
গরম ও আর্দ্রতার এই ঋতুবদলে রোজা পালনকালে ত্বকের যত্নে নিয়মিত পানি গ্রহণ, সঠিক ত্বকচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যই মূল চাবিকাঠি।
