সংসদ সদস্য না হয়েও কুমিল্লার বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন) মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন। নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ ত্যাগের মূল্যায়ন পেয়েছেন। তাঁর মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লার মানুষ উচ্ছ্বসিত।
আমিন-উর-রশিদকে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকেও তাঁকে সুখবর দেওয়া হয়। তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা আজকের খবরকে নিশ্চিত করেছেন।
আমিন-উর-রশিদ কুমিল্লা নগরের মনোহরপুর (নিমতলী) এলাকার ভোটার। তবে তাঁর পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে। তাঁর বাবা প্রয়াত হাজী আলী মিয়া ও মা আমেনা বেগম। তিনি ১৯৫৮ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় ব্যবসায়ী আমিন-উর-রশিদ ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিলুপ্ত হওয়া কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা (টিপু) বলেন, ‘গত ৩৪ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সৎ ও পরীক্ষিত নেতা হাজী আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন। বিগত ১৭ বছর কুমিল্লা সদর আসনে দলকে আগলে রেখেছেন তিনি। মাঠে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। দলের জন্য আজীবন শুধু ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। অবশেষে সেই ত্যাগের মূল্যায়ন হয়েছে। কুমিল্লার মানুষ হিসেবে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই, দেশনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। তিনি আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন ভাইকে নয়, কুমিল্লার মানুষকে মূল্যায়ন করেছেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক ছিলেন।
নির্বাচনে মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর গত ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন আমিন-উর-রশিদ। ওই বৈঠকের পরই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই দিন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আমিন-উর-রশিদকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলাধীন (সাংগঠনিক জেলা) বিএনপির সব সংসদীয় আসনে ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিজে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন আসনগুলোর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন তিনি। বিশেষ করে তাঁর উদ্যোগে কুমিল্লা-৯ আসনে দলীয় ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর দ্বন্দ্বের অবসান হওয়ায় ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই সহজ হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার বিষয়ে আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন) মুঠোফোনে আজকের খবরকে বলেন, ‘সবকিছুর জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’
