আরব সাগরে বড় ধরনের এক অভিযানে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উষ্ণতার প্রেক্ষাপটে এই অভিযান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মুম্বাই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) থেকে ‘স্টেলার রুবি’, ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ এবং ‘আল জাফজিয়া’ নামের জাহাজগুলো আটক করা হয়। ভারতীয় কোস্টগার্ডের প্রায় ৫৫টি জাহাজ ও ১০-১২টি বিমান দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এসব জাহাজ বারবার নিজেদের নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার) মাধ্যমে তেলের উৎস গোপন করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জব্দ হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ও ‘আল জাফজিয়া’ সরাসরি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে ‘অ্যাসফল্ট স্টার’ চীনের পথে চলাচল করছিল বলে জানা গেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এসব জাহাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানের পেছনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার উষ্ণ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজ জব্দ এবং চাবাহার বন্দরে বাজেট বরাদ্দ স্থগিতের মতো সিদ্ধান্তগুলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তদন্ত চলছে
বর্তমানে জব্দ করা তিনটি ট্যাংকারকে আরও তদন্তের জন্য মুম্বাই বন্দরে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেলবাজারে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এ ঘটনার প্রভাব নিয়ে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা।
