ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় দেশের ২০টি কারাগারে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগে পালিয়ে যায় ২ হাজার ২০০ জনের বেশি কয়েদি ও হাজতি। নিরাপত্তা বাহিনীর দেড় বছরের অভিযানের পরও এখনো ৫৩৭ জন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
পলাতকদের মধ্যে ৬৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কিংবা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত—যাদের ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া, কাশিমপুর, সাতক্ষীরা, নরসিংদী ও শেরপুর কারাগারে সবচেয়ে বেশি পালানোর ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেফতার করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি র্যাব আরও ১৬৩ জন পলাতককে আটক করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, “দাগি আসামিরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে তা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। অনেকেই হয়তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তবুও সীমান্ত ও নিরাপত্তা নজরদারি জোরদার রাখতে হবে।”
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, গুরুতর অপরাধে জড়িত ৬৯ জন ছাড়া বাকি পলাতকদের অধিকাংশই তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ মামলার আসামি।
এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান রাসেল বলেন, পলাতকদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে এবং গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়বে। কারা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, সব বাহিনীর সমন্বয়ে পলাতকদের আটক করতে কারা গোয়েন্দারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
