চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সরকারি কর্মচারীরা কোনো ব্যক্তির গোলাম নন, তারা রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ভোট নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাঁশখালী উপজেলা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ভোট কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি হবে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন, যেখানে আমরা, আপনারা ও আগামী প্রজন্ম নিরাপদে থাকবে। এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, কেউ জিতবে কেউ হারবে, কিন্তু আমরা সরকারি কর্মচারীরা চাই পুরো বাংলাদেশকে জয়ী করতে।”
জনগণের বিশ্বাস রক্ষা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আস্থা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গাফিলতি বা প্রতারণা বরদাশতযোগ্য নয়। দায়িত্বে ব্যর্থতা হলে ছাড় দেওয়া হবে না।”
নির্বাচন শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মায়ের বুক থেকে সন্তান হারানোর রক্তের বিনিময়ে গড়া এই নতুন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি হবে না।”
নিরপেক্ষ নির্বাচন চাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যা উৎসবমুখর ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে। এর মূলমন্ত্র হলো নিরপেক্ষতা।”
সরকারি কর্মচারীদের পুরনো নেতিবাচক ভাবমূর্তির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের গায়ে লেগে থাকা কালো দাগ ধুয়ে ফেলতে হবে। আমরা শুধু বেতন পাই না, দেশের জন্য কাজ করি।”
সভায় উপস্থিত সবাইকে প্রশ্ন করে বলেন, “আমাদের কি সাহস, মেরুদণ্ড ও বিবেক আছে?” সবাই ‘হ্যাঁ’ সাড়া দেন। এরপর তিনি বলেন, “আমরা বিবেক বিক্রি করিনি, কোনো ব্যক্তির গোলাম নই, আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ।”
তিনি স্বীকার করেন সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখন কাজের সময়, দেশের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আবেগে আটকে না থেকে রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমার মতোই সবাই মনিটরিংয়ের আওতায়, তাই সাবধান থাকতে হবে।”
নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং জরুরি সময়ে দ্রুত ফোর্স পৌঁছানোর ব্যবস্থা আছে। এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন নিশ্চিত করা।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি প্রমাণ করব সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রকে দিচ্ছে সর্বোচ্চ সেবা, এবং নির্বাচনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আন্দালিব কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, আনসার-ভিডিপির পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমদ, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামশেদুল আলম।
