রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব গত কয়েক বছর ধরেই দ্রুত বেড়েছে। এখন একটি দেশ বা অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণেও বড় ভূমিকা রাখছে সোশ্যাল মিডিয়া। মিশরের তাহরির স্কয়ারের আরব বসন্ত থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের গণঅভ্যুত্থান—সব ক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল শক্তিশালী হাতিয়ার।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষ যেমন মতামত প্রকাশ ও তথ্য আদান–প্রদান করছেন, তেমনি রাজনৈতিক দল, কর্মী, সরকার ও নাগরিকরা প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।
দেশে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটির বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ৬ কোটি, টিকটক ৪ কোটি ৬০ লাখ, লিংকডইন ৯৯ লাখ এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী প্রায় ৭৫ লাখ। ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ তরুণ হওয়ায়, তাদের লক্ষ্য করেই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈদেশিক কমিটির বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, অফলাইনের তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক তৎপরতা এখন অনেক বেশি। তবে এটি অনিয়ন্ত্রিত একটি মাধ্যম হওয়ায় ভুয়া ফটোকার্ড, বিভ্রান্তিকর খবর, গুজব ও অপতথ্যের ঝুঁকিও বেড়েছে।
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম জানান, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উদারপন্থী ও রক্ষণশীল ব্যবহারকারীরা কার্যত আলাদা আলাদা তথ্যজগতে বসবাস করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এই বিভাজনকে আরও গভীর করছে। ফলে গুজব, অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নেতিবাচক প্রভাবও বাড়ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আধুনিক সফটওয়্যার থাকলেও মনিটরিং সেলের কাছে প্রয়োজনীয় পেশাদার প্রযুক্তি নেই। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে জিওলোকেশন ও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট শনাক্তের মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব আরও ভিন্ন ও গভীর মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। তাই নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
