জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলছে। মামলাটিতে মোট আসামির সংখ্যা ৩০ জন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ জেরা শুরু হয়। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্যানেলের অপর সদস্য জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজ তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে জেরা করছেন পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। জেরাকালে তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়।
জেরায় টিটো জানতে চান, এসআই মো. তরিকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আল ইমরান হোসেনকে মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রসিকিউশনের আপত্তিসহ প্রশ্নটি লিপিবদ্ধ করা হয়।
তাজহাট থানায় আবু সাঈদ হত্যা সংক্রান্তে দায়ের করা মামলার নথি পর্যালোচনা করেছেন কি না— এমন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দেন। পরে ফরমাল চার্জ গঠনের পরও তদন্ত অব্যাহত রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রসিকিউশন তা অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে আপত্তি জানায়, ফলে প্রশ্নটি আর গ্রহণ করা হয়নি।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) তদন্ত কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। সোমবার (৬ জানুয়ারি) তার অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে জেরা শুরু করেন আজিজুর রহমান দুলু, যিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিলে ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরে ২২ জুলাই পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
