ঢাকা, ১১ নভেম্বর — দেশের ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের সুরক্ষায় গঠিত ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স তহবিলে বর্তমানে জমা রয়েছে মাত্র ১৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে ছোট আকারের প্রায় ২৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রতি জনে ১ লাখ টাকা করে ফেরত দেওয়া সম্ভব। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবার এই তহবিলের একটি অংশ সম্মিলিত বা একীভূত ব্যাংকে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যে দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যাংকগুলোতে এই সীমিত তহবিল বিনিয়োগ করা হলে আমানতকারীদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে বা দেউলিয়া হলে এই তহবিল থেকেই আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আমানত বিমায় সুরক্ষিত অর্থের পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হলেও সীমা ২ লাখে বাড়ানো হলে এই সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, মার্জার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে তহবিল ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হিসাব তৈরি হয়নি। প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংকসহ সরকারি অন্যান্য উৎস থেকেও অর্থ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো ব্যাংকিং খাতের আমানতকারীদের সুরক্ষায় অন্তত ২৬ হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহিদ বলেন, “যদি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যবহার করা হয়, তাহলে অন্য ব্যাংকগুলো বিপদে পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিশাল চাপ নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের আমানত বিমা খসড়ায় ক্ষতিপূরণের সীমা ১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি এখনো সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
