নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্নায়ুচাপে পড়ছে দেশের আর্থিক খাত। রমজানের আগে নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসির চাপ, নির্বাচনের পর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের গতি ধরে রাখতে ডলার সরবরাহ এবং নীতি সহায়তা—এই তিন দিকেই বড় প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, শুধুমাত্র ডলার সরবরাহ বৃদ্ধি বা সুদের হার কমানো নয়, করনীতি সংস্কার ও আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করার বাস্তব পদক্ষেপই এখন জরুরি।
রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজ, চিনি, ডাল, ছোলা, খেজুর ও তেলের মতো পণ্যের আমদানি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতিবছরই এ খাতের আর্থিক আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিল্প ও জ্বালানি খাতে আমদানি কিছুটা বেড়েছে, যদিও তা গত বছরের তুলনায় এখনও কম।
দেশি বিনিয়োগকারীদের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নতুন সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। ফলে, আগামী ছয় মাসে অর্থনীতি পড়তে যাচ্ছে ত্রিমুখী চাপে—নিত্যপণ্য আমদানি, নির্বাচন-পরবর্তী বিনিয়োগ পরিবেশ ও বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “নির্বাচনের পর যখন নতুন সরকার আসবে, তখন ব্যবসা-বাণিজ্যে চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। বেসরকারি খাত বিনিয়োগে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আমদানি ও রফতানি বাড়বে, এতে চাপও তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রিজার্ভ নিয়ে এখন কিছুটা স্বস্তি থাকলেও, সামনে যখন একযোগে ভোগ্যপণ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির চাপ বাড়বে, তখন সেই স্বস্তি থাকবেনা।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, গত বছরের মতো এবারও আমদানি কর বৃদ্ধি ও অর্থ পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করা হবে।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
