বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত এখন মারাত্মক সংকটে পড়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিতরণ করা ঋণ পরিণত হয়েছে খেলাপিতে, যা আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারি ও বেসরকারি—মোট ২৪টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে, যা পুরো আর্থিক খাতকেই ঝুঁকিতে ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ২৪ ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং ২টি বিশেষায়িত ব্যাংক। জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী, ১৮টি বেসরকারি ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকের ৩২ হাজার ৬৭৮ কোটি এবং বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের ৩১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।
জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, “প্রায় সব ব্যাংকই নেতিবাচক অবস্থায় আছে। এই ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়, সময় লাগবে।”
রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, “সরকারের কাছ থেকে ৯৬৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে, যা পেইড আপ ক্যাপিটালে যুক্ত হবে। এখন প্রধান লক্ষ্য হলো ঋণ পুনরুদ্ধার।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসাথে ২৪ ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়া উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির বলেন, “খেলাপি ঋণের পরিমাণ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। মূলধন ঘাটতির কারণে এসব ব্যাংক নতুন ঋণ দিতে পারবে না, আন্তর্জাতিক লেনদেনও সংকুচিত হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, খেলাপি ঋণই মূলধন ঘাটতির মূল কারণ। তাই ঋণ আদায় ছাড়া সংকট নিরসনের কোনো বিকল্প নেই। ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “অধিক প্রভিশন রাখতে গেলে আয়েরও প্রয়োজন হয়। কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় প্রভিশন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মূলধনের ঘাটতিতে পরিণত হচ্ছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে এবং এজন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
