আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে অবৈধভাবে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সরকারের পদক্ষেপের কারণে তার পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান “শত শত কোটি টাকা” ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম এবং তার পরিবারের পক্ষের আইনজীবীরা সোমবার ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (আইসিএসআইডি)-এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা অভিযোগ করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে তারা “নির্বিচারে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও মূল্য ধ্বংসের লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান”-এর শিকার হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন ডলার ফেরত আনার চেষ্টা করছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘অর্থনীতির শ্বেতপত্রে’ বিদেশে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অর্থের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর অভিযোগ করেছেন, এস আলম পরিবার দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে।
এস আলম গ্রুপের পক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এর মধ্যে কোনো সত্যতা নেই। এর আগে আইনজীবীরা ইউনূস সরকারকে সতর্ক করেছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা না হলে তারা আন্তর্জাতিক সালিশি মামলা করবেন।
সালিশি আবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইন সংস্থা কুইন ইমানুয়েল আরকহার্ট অ্যান্ড সুলিভানের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, সরকার এস আলম পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ জব্দ করেছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ তদন্ত চালিয়েছে এবং পরিবারটিকে লক্ষ্য করে ‘উসকানিমূলক প্রচার অভিযান’ পরিচালনা করেছে। এর ফলে “শত শত কোটি ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি” হয়েছে।
মামলাটি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এস আলম পরিবারের সদস্যরা ২০২০ সালে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছে, সিঙ্গাপুরের নাগরিক হওয়ায় বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বৈদেশিক বেসরকারি বিনিয়োগ আইনে প্রদত্ত সুরক্ষা তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর জানিয়েছেন, “যথাযথ নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে পৌঁছালে আমরা জবাব দেব।” প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
