চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খাল ও জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলোতে চলমান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে তদারকি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, প্রতিটি কমিটি ৩ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এবং নির্দিষ্ট এলাকা ও খালভিত্তিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
নতুন গঠিত কমিটিগুলোর আওতায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল এবং একটি আলাদা নগর এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিজরা খাল, জামালখান খাল, রামপুর খাল, গুলজার খাল, মনোহরদি খাল এবং চান্দগাঁও–মুরাদপুর এলাকা।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান খনন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি এসব কমিটি ওয়াসাসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন। এছাড়া চসিক সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী বাংলাদেশ ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবেন।
চট্টগ্রাম শহরে সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, পাঁচলাইশ ও রহমতগঞ্জসহ অন্তত ১৫–২০টি এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিনই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন এই সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধানের দিকে অগ্রগতি আসবে।
