হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের ভূমিকা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ওয়াশিংটন এখন দেখছে বেইজিং কূটনৈতিকভাবে কতটা সক্রিয় হয় এ বিষয়ে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চীনকে আহ্বান জানান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের ওপর প্রভাব খাটাতে। তার মতে, এই নৌপথের অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম বড় জটিল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বানের পেছনে বড় কৌশলগত হিসাব রয়েছে। কারণ চীন ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ক্রেতা এবং তেহরানের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। ফলে বেইজিং চাইলে ইরানের ওপর কার্যকর চাপ তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বুঝিয়ে দিতে চাইছে, হরমুজ প্রণালি সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়—এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়। প্রণালিটি বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার প্রভাব পড়ে বড় অর্থনীতিগুলোর ওপরও।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটনের এই বার্তা আসলে দ্বিমুখী—একদিকে ইরানের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে চীনের ভূমিকাকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃশ্যমান করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
