ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মোক্তার হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কৈটুপিপাড়ার আঞ্চলিক সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বক্তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুপুরে চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে অটোরিকশাচালক মোক্তার হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২ ডিসেম্বর নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে কামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন কামাল হোসেন। হত্যার পর থেকেই তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মামলা আপস করতে চাপ দিচ্ছেন। রাজি না হলে তাঁকেও এবং তাঁর বড় ছেলেকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে পৃথক আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে কুপিয়ে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এই অঞ্চলে আগে কখনও ঘটেনি। মামলার প্রধান আসামি এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা সব আসামির দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য দেন নিহতের মা মাজেদা বেগম, ভাই আক্তার হোসেন, প্রতিবেশী এম এ ফাহাদ, জহিরুল ইসলাম ও ফাহিম মিয়া। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করেন প্রধান আসামি কামাল হোসেন। বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, হত্যার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও নিহতের পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারণ ঘটনার সময় তারা মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরে অবস্থান করছিলেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
