কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশে বুলেট বৈরাগী (৩৫) নামে ওই কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ির পথে ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও মো. সুজন।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাগ ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, স্ক্রু ড্রাইভার, হ্যামার, প্লায়ার্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা রাতে যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত।
ঘটনার দিন গভীর রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিতে তুলে নেয় আসামিরা। পরে চলন্ত গাড়ির ভেতরে তাকে মারধর করে নগদ অর্থ ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছে তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
