ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আটলান্টিকের দুই পাড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনাও ঘটে। তবে সব উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কা উপেক্ষা করেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে সম্মান জানাতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা ২৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনে পৌঁছাবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও কোনো ব্রিটিশ সম্রাট একই মঞ্চে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সম্মান এবং দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীকী বার্তা বহন করছে।
এ সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে চা পান এবং একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন রাজদম্পতি। বুধবার তারা নিউইয়র্ক সফর করবেন এবং ৯/১১ হামলার স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার বারমুডার উদ্দেশে রওনা দেবেন। রাজা হিসেবে কোনো ব্রিটিশ উপনিবেশে এটিই হবে চার্লসের প্রথম সফর।
এর আগে শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে গুলির ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা দলের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তবে ট্রাম্প, মেলানিয়া ও অন্যান্য অতিথিরা অক্ষত রয়েছেন।
ঘটনার পর বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও তার পরিবার নিরাপদ থাকায় রাজা চার্লস ‘অত্যন্ত স্বস্তি’ অনুভব করেছেন। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পরও সফর পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই চলবে।
তবে হামলার ঘটনার পর রাজার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান টার্নার বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
