দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে হাজারো পরিবার। তবে ফিরে এসে তারা দেখছে—শুধু ঘরবাড়িই নয়, পুরো গ্রাম ও শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
লেবাননে আন্তর্জাতিক সংস্থা কেয়ার ইন্টারন্যাশনালের যোগাযোগ সমন্বয়ক সিরিল বাসিল আল জাজিরাকে বলেন, অনেকেই তাদের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে চান, যদিও সেখানে থাকার মতো কোনো অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই।
তার ভাষায়, “মানুষ শুধু ঘর নয়, পুরো বসতি হারিয়েছে। তাদের কাছে এখন কিছুই নেই—পানি, খাবার, ন্যূনতম স্বাস্থ্যসামগ্রী—সবকিছুর তীব্র সংকট।”
সংস্থাটির দলগুলো দক্ষিণ লেবাননে গরম খাবার, পানি, ম্যাট্রেস ও কম্বল বিতরণ করছে। তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বর্তমানে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় সাত লাখের বেশি মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। অনেকেই গাড়িতে, সমুদ্রসৈকতে কিংবা ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন।
এদিকে লেবাননে বর্তমানে বৃষ্টি ও ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বাসিল বলেন, “ভাবুন, শিশু ও তাদের পরিবারগুলো বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, অনেক মানুষের মানসিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তারা স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছেন না। দীর্ঘদিনের বিমান হামলা ও আতঙ্ক তাদের মানসিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বাসিল বলেন, “ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা এক বিষয়, কিন্তু মানুষের মন ও নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা অনেক বেশি কঠিন।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট, ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণ, পরবর্তী যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাত—সব মিলিয়ে লেবাননের পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে।
