লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও বিশ্লেষক রামি খুরি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। তার মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খুরি বলেন, পাকিস্তান শুরু থেকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের সমাধানের সঙ্গে লেবানন ইস্যুকে যুক্ত করার পক্ষে জোর দিয়েছিল, যা ছিল বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ এপ্রিল থেকে এ দাবির পর থেকে লেবাননে অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরুতে এই দুই ইস্যুকে আলাদা রাখতে চেয়েছিল, যাতে উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে তাদের প্রভাব বজায় থাকে। তবে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
তিনি মনে করেন, এখন অঞ্চলটি এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে—যেখানে একতরফা সামরিক হামলার বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
খুরি এই সময়কে মধ্যপ্রাচ্যের ‘উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের শেষ অধ্যায়ের অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ইরান, হিজবুল্লাহ, হামাসসহ বিভিন্ন পক্ষ পশ্চিমা সামরিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিলিস্তিন প্রশ্ন।
ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি সমাধান প্রয়োজন যেখানে ইসরায়েল নিজস্ব রাষ্ট্রে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
