ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের হুমকি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই হুমকি হয়তো সরাসরি আক্রমণের ইঙ্গিত নয়, বরং একটি কৌশলগত ‘ফাঁদ’ও হতে পারে।
ইরানের জন্য খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির তেলভিত্তিক আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে আসে। ফলে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ হারানো তেহরানের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদিও ইরান দাবি করে, তেল রপ্তানির বিকল্প পথ তাদের রয়েছে, তবুও বাস্তবতায় খার্গ দ্বীপের গুরুত্ব অপরিসীম।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই দ্বীপে হামলার হুমকি দিয়ে ইরানকে প্রতিরক্ষায় ব্যস্ত রাখতে চাইতে পারে, যাতে অন্য কোথাও কৌশলগত সুবিধা নেওয়া যায়।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দ্বীপ নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে লারাক দ্বীপ হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, ইরান এই পথ দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে তল্লাশির নামে বাধ্য করছে এবং প্রতিটি জাহাজ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করছে।
কেশম দ্বীপেও ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি থাকার ধারণা রয়েছে, যা সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব দ্বীপগুলো নিয়েও আঞ্চলিক বিরোধ থাকলেও বর্তমানে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে।
পারস্য উপসাগরের এসব দ্বীপ কার্যত ইরানের জন্য একটি প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করেছে। জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মাধ্যমে তেহরান এই অঞ্চলে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে।
সব মিলিয়ে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি শুধুই সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস, নাকি বৃহত্তর কৌশলগত খেলায় একটি বিভ্রান্তিমূলক চাল—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
